RECENT POST

নোটিশ বোর্ড

মডেল টেস্ট

আইনের চাকরি

From our Blog

28 November 2018

ড. কামাল হোসেন নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না



ঢাকা–৬ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিতে এসে গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি ও ঐক্যফ্রন্টের নেতা সুব্রত চৌধুরী বলেছেন, ড. কামাল হোসেন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছে না। আজ বুধবার বেলা দেড়টার দিকে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে নিজের মনোনয়ন ফরম জমা দেন সুব্রত চৌধুরী।

গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে আমরা দিন দিন হতাশার দিকে যাচ্ছি। ইসির আচরণের মনে হচ্ছে, তারা প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন করতে যাচ্ছে। তারা ৫ জানুয়ারির মতো আরেকটি নির্বাচনের মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল। আমরা ঐক্যফ্রন্ট গঠনের মাধ্যমে নির্বাচনী জোয়ার তৈরি করেছি।’

জামায়াত প্রসঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের নেতা সুব্রত চৌধুরী বলেন, তিনি জামায়াত দেখেন না। জামায়াত যাঁরা, তাঁরা আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন।

আইনের ধারা মনে রাখার সহজ উপায়


আইনের ধারা মনে রাখার সহজ উপায় How to remember the section of act/ The easy way to remember the section of act . বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৩ হাজারের বেশি আইন রয়েছে। সব আইনের সব ধারা মনে রাখা দুঃসাধ্য ব্যাপার তবে আইনকে প্রফেশনালি নিলে অন্তত কোন কোন আইনে কি রয়েছে সেটা মনে রাখতে হবেন। একেবারে সঠিক ধারা মনেরাখা প্রয়োজন আইনের ছাত্রদের জন্য কারণ তারা আইন বিষয়ে ডিগ্রী নেওয়ার পর ২টি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়। একটি হল জুডিসিয়াল সার্ভিস পরীক্ষা আর অন্যটি হল আইনজীবী নিবন্ধন পরীক্ষা। জুডিসিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় নির্বাচিত হলে আপনি সহকারী জজ হিসাবে নিয়োগ পাবেন আর আইনজীবী নিবন্ধন পরীক্ষা পাস করলে আপনি আদালতে আইনজীবী হিসাবে কাজ করার অনুমতি পাবেন। আইনের সকল ছাত্রের একটা সাধারণ প্রশ্ন হল “আইনের ধারা কিভাবে মনে রাখবো?” আপনার মনে যদি “আইনের ধারা কিভাবে মনে রাখবো?” এই প্রশ্ন থাকে তবে এই ভিডিও আপনার জন্য। যেমন দণ্ডবিধির গুরুত্বপূর্ণ ধারা: মৃত্যুদণ্ডের ধারাগুলো:১২১, ১৩২, ১৯৪, ৩০২, ৩০৩, ৩০৫, ৩০৭(২), ৩৯৬ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের ধারা গুলো: ১২১, ১২১ক, ১২২, ১২৪ক, ১২৫, ১২৮, ১৩০, ১৩২, ১৯৪, ১৯৫, ২২৫, ২২৫ক, ২২৬, ২৩২, ২৩৩, ২৫৫, ৩০২, ৩০৪, ৩০৫, ৩০৭, ৩১১-৩১৫ , ৩২৬, ৩২৯, ৩৬৪, ৩৭১, ৩৭৬, ৩৭৭, ৩৮৮, ৩৮৯, ৩৯৪, ৩৯৬, ৪০০, ৪০৯, ৪১২, ৪১৩, ৪৩৬, ৪৩৭, ৪৪৯, ৪৫৯, ৪৬০, ৪৬৭, ৪৭২, ৪৭৪, ৪৭৫, ৪৭৭ সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের ধারাগুলো : ১২৬, ১২৭, ১৬৯ শুধুমাত্র জরিমানা দণ্ড : ১৩৭, ১৫৪-১৫৬, ১৭৬, ২৯৪ক, ১৭১, ২৭৮, ২৬৩ক, ২৮৩, ২৯০, ১২৩-১২৮, ১৩০, ১৩৪, ৩৮০, ৪৫৭। দণ্ডবিধির প্রথম শাস্তির ধারা ১০৯ এবং সর্বশেষ শাস্তির ধারা ৫১১। সবচেয়ে কম শাস্তির ধারা ৫১০ এবং সর্বোচ্চ ৩০৩ এভাবে আপনার নিজের মত করে সাজিয়ে নিবেন। ভিডিও দেখাত পর আশাকরি বিষয়টি সকলে বুঝেছেন। আপনি যদি উপরোক্ত ৫ ধাপ মেনে চলেন তবে আপনি অবশ্যই ধারা মনে রাখতে পারবেন। সব সময় মূল আইন পড়ুন এবং গাইড বা নোট বইকে সহায়ক বই হিসাবে ব্যবহার করুণ। আমাদের অন্যান্য ভিডিও গুলো দেখতে পারেন। বিশ্বের ১০ জন ধনী আইনজীবী https://www.youtube.com/watch?v=x-qad... ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ https://www.youtube.com/watch?v=RH7FC... বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস পরীক্ষার সিলেবাস https://www.youtube.com/watch?v=VJCG2... ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায় https://www.youtube.com/watch?v=b5LSH... #আইনের_ধারা_মনে_রাখার_সহজ_উপায় #BanglaLawSchool #How_to_remember_the_section_of_act

03 October 2018

আইনের ধারা মনে রাখার সহজ উপায়

একজন সাধারণ ব্যক্তি এবং একজন আইন বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তির মধ্যে প্রধান পার্থক্য হল একজন সাধারণ ব্যক্তি জানেন কোনটা অপরাধ আর কোনটা অপরাধ নয় কিন্তু আইন বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তি একই বিষয় জানার সাথে জানেন কোন আইনের কত ধারায় সেই বিষয়ে বলা আছে। কোন আইনের কোন ধারা জানেন বলেই তিনি অভিজ্ঞ। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৩ হাজারের বেশি আইন রয়েছে। সব আইনের সব ধারা মনে রাখা দুঃসাধ্য ব্যাপার তবে আইনকে পেশা হিসেবে নিলে অন্তত কোন কোন আইনে কি রয়েছে সেটা মনে রাখতে হবে।
একেবারে সঠিক ধারা মনে রাখা প্রয়োজন আইনের ছাত্রদের জন্য কারণ তারা আইন বিষয়ে ডিগ্রী নেওয়ার পর ২টি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়। একটি হল জুডিসিয়াল  সার্ভিস পরীক্ষা আর অন্যটি হল আইনজীবী নিবন্ধন পরীক্ষা। জুডিসিয়াল  সার্ভিস পরীক্ষায় নির্বাচিত হলে আপনি সহকারী জজ হিসাবে নিয়োগ পাবেন আর আইনজীবী নিবন্ধন পরীক্ষা পাস করলে আপনি আদালতে আইনজীবী হিসাবে কাজ করার অনুমতি পাবেন। আইনের সকল শিক্ষার্থীর একটা সাধারণ প্রশ্ন হল “আইনের ধারা কিভাবে মনে রাখবো?”
জুডিসিয়াল  সার্ভিস পরীক্ষা বা আইনজীবী নিবন্ধন পরীক্ষার প্রাথমিক নির্বাচনী বা এমসিকিউ (MCQ) পরীক্ষায় এখন প্রায়  ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ প্রশ্ন আসে ধারা নিয়ে। যেমন, দণ্ডবিধির কোন ধারায় চুরি নিয়ে বলা আছে? বা দণ্ডবিধিতে কত নম্বর ধারায় চুরির সংজ্ঞা আছে? ইত্যাদি। এছাড়াও লিখিত পরীক্ষায় যদি বর্ণনার সাথে সঠিক ধারা উল্লেখ করা যায় তবে পরীক্ষক বেশি নম্বর দেন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল প্রাথমিক নির্বাচনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হলে সঠিক ভাবে ধারা মনে রাখতে হবে। এই বিষয় মাথায় রেখে আজ আলোচনা করা হবে কিভাবে একজন আইনের শিক্ষার্থী আইনের ধারা সহজে মনে রাখতে পারবেন। অনেক জুডিসিয়াল সার্ভিস পরীক্ষার পরীক্ষার্থী সব গুলো আইনের নাম বলতে পারেন না সেখানে তাদের প্রশ্ন করা হয় আইনের ধারা নিয়ে। যেকোনো আইন পড়ার এবং ধারা মনে রাখার ধাপ গুলো হল;
ধাপ ১) সবার প্রথমে মনকে ঠিক করতে হবে যে  আপনি ধারা মনে রাখতে চান এবং মনের মধ্যে এই আগ্রহ  তৈরি করতে হবে ।
ধাপ ২) প্রথমে আপনি মুখস্থ করার চেষ্টা করবেন মোট কয়টি ধারা আছে , কয়টি অধ্যায় বিভক্ত এবং কি ?  যেমন, দণ্ডবিধি ১৮৬০ এ মোট ধারা রয়েছে ৫১১ টি এবং অধ্যায় রয়েছে ২৩ টি।
ধাপ ৩) এরপর উক্ত আইনের গুরুত্বপূর্ণ ধারা গুলো নির্বাচন করতে হবে।
যেমন দণ্ডবিধির গুরুত্বপূর্ণ ধারা:
মৃত্যুদণ্ডের ধারাগুলো: ১২১, ১৩২, ১৯৪, ৩০২, ৩০৩, ৩০৫, ৩০৭(২), ৩৯৬
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের ধারা গুলো:
১২১, ১২১ক, ১২২, ১২৪ক, ১২৫, ১২৮, ১৩০, ১৩২, ১৯৪, ১৯৫, ২২৫, ২২৫ক, ২২৬, ২৩২, ২৩৩, ২৫৫, ৩০২, ৩০৪, ৩০৫, ৩০৭, ৩১১-৩১৫ , ৩২৬, ৩২৯, ৩৬৪, ৩৭১, ৩৭৬, ৩৭৭, ৩৮৮, ৩৮৯, ৩৯৪, ৩৯৬, ৪০০, ৪০৯, ৪১২, ৪১৩, ৪৩৬, ৪৩৭, ৪৪৯, ৪৫৯, ৪৬০, ৪৬৭, ৪৭২, ৪৭৪, ৪৭৫, ৪৭৭
সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের ধারাগুলো : ১২৬, ১২৭, ১৬৯
শুধুমাত্র জরিমানা দণ্ড : ১৩৭, ১৫৪-১৫৬, ১৭৬, ২৯৪ক, ১৭১, ২৭৮, ২৬৩ক, ২৮৩, ২৯০, ১২৩-১২৮, ১৩০, ১৩৪, ৩৮০, ৪৫৭।
দণ্ডবিধির প্রথম শাস্তির ধারা ১০৯ এবং
সর্বশেষ শাস্তির ধারা ৫১১।
সবচেয়ে কম শাস্তির ধারা ৫১০ এবং সর্বোচ্চ ৩০৩
এভাবে আপনার নিজের মত করে সাজিয়ে নিবেন।
ধাপ ৪) যেকোনো বিষয়ের শুরুর ধারা এবং শেষ ধারা। তাহলে যেকোনো মাথায় একটি কাঠামো তৈরি হবে উক্ত বিষয় সম্পর্কে। গুরুত্বপূর্ণ ধারার মাঝে যেসকল ধারা রয়েছে সেটা সম্পর্কে একটা ধারণা নিতে  হবে ।
যেমন চুরি বিষয়ে শুরুর ধারা ৩৭৮ এবং শেষ ধারা ৩৮২।
ধাপ ৫) নিয়মিত অনুশীলন করতে হবে। প্রতিদিন করলে খুব ভাল, না হলে সপ্তাহে অন্তত একবার পড়তে হবে। তাও সম্ভব না হলে অন্তত গুরুত্বপূর্ণ ধারা গুলো নিয়মিত পড়তে হবে।
আইন নিয়ে কিছু করতে হলে যেমন আপনি বিচারক বা আইনজীবী হলে আপনাকে ধারা মনে রাখতেই হবে। আর এই পেশায় পড়াশুনার কোন বিকল্প নাই। আমাদের দেশে প্রতিষ্ঠিত আইনজীবীগণ এখনো নিয়মিত পড়াশুনা করেন।
আশাকরি বিষয়টি সকলে বুঝেছেন। আপনি যদি উপরোক্ত ৫ ধাপ মেনে চলেন তবে আপনি অবশ্যই ধারা মনে রাখতে পারবেন। সব সময় মূল আইন পড়ুন এবং গাইড বা নোট বইকে সহায়ক বই হিসাবে ব্যবহার করুণ।
লেখক: পরিচালক বাংলা ল’ স্কুল ইউটিউব চ্যানেল এবং শিক্ষানবিশ আইনজীবী ঢাকা জজ কোর্ট

02 April 2017

ল’ গ্র্যাজুয়েটের জন্য ইন্টার্নের সুযোগ

পদের নাম: Intern
প্রতিষ্ঠানের নাম: Deutsche Gesellschaft für Internationale Zusammenarbeit (GIZ) GmbH
চাকরির প্রাসঙ্গিক বর্ণনা:
For the team of our Rule of Law programme, we seek applications from suitable candidates for position of “Intern”.
Job Location: Dhaka (field visit expected)
Contract Duration: 6 months
চাকরির বিবরণ/দায়িত্বসমূহ:
Responsibilities
Necessary support to Justice Reform team
Assisting documentation, report preparation, develop and knowledge management
Supporting necessary research and translation
Core scope of tasks :
Assist team for relevant quantitative and qualitative data input and analysis
Asist in preparing transcript and translation from English to Bangla or vis-a-vis
Assist in day to day project documentation and reporting
Support to desk research on law, criminal justice system and procedure
Assist in arranging meeting, workshop etc. and preparing meeting minutes
Travel to districts with Justice Reform team when required
Provide any other support assigned by Supervisor
চাকরির ধরন: ইন্টার্ন
শিক্ষাগত যোগ্যতা:
Only fresh Law graduates (LL.B Hon’s) or have graduated (LL.B Hon’s) no more than six months before are requested to apply
অন্যান্য যোগ্যতা:
Not required, only fresh Law graduates are requested to apply
Excellent communication and interpersonal skills
Excellent command on MS Office especially MS Excel and Bijoy Bangla software
Willing to work under pressure and in inter-cultural environment
কর্মস্হল: Dhaka
বেতন সীমা: আলোচনা সাপেক্ষ
যোগাযোগের ঠিকানা:
We only accept electronic applications.
If you meet the above requirements, you can apply through the link below from 9:00 am to 6:00 pm on working days only : jobs.gizbd.org
If you face any technical difficulties while applying for this position in the above mentions time, please contact us at this email address it-bangladesh@giz.de
No phone calls please. Only short-listed candidates will be contacted.
All applications will be treated according to the merit and with strict confidentiality.
GIZ is an equal opportunity employer.
Women and impaired persons are especially encouraged to apply and they will be selected in case of equal qualification with other candidates.
আবেদনের শেষ তারিখ: এপ্রিল ১৫, ২০১৭

ল’ইয়ার্স ক্লাব বাংলাদেশ ডটকম জব ডেস্ক

নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় জামিন সমস্যা




নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় জামিন সমস্যা 
বেলাল আজাদ॥

ঘটনাচিত্র-১: ইয়াসমিন আর ইমরান একে অপরকে ভালবেসে বিয়ে করে। ৩ বছরের দাম্পত্যে তাদের একটি পূত্র শিশুর জন্ম হয়। এর মধ্যে দু'জনের সংসারে দাম্পত্য কলহের সৃষ্টি হলে, ইয়াছমিন পিত্রালয়ে চলে যায়। ইয়াছমিন তার স্বামীর বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে সালিশ দিলে, সালিশকারের কাছে ইমরান হাজির হয়নি। ইয়াছমিন নিকটস্থ থানায় অভিযোগ দিলে, থানার পুলিশ ইয়াছমিনকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়। ইয়াছমিন আদালত এলাকায় গিয়ে একজন আইনজীবীর সাথে আলাপ করে, আইনজীবীর পরামর্শে ইয়াছমিন স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে কয়েক শ' টাকা খরচ করে সিম্পল একটি জখমী সনদ ও কাজী অফিস থেকে কাবিননামার কপি সংগ্রহ করে আবার আইনজীবীর সাথে সাক্ষাৎ করে। ইয়াছমিন বাদী হয়ে স্বামী, বৃদ্ধ শ্বাশুর ও শ্বাশুরী ৩ জন কে আসামী করে 'নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যূনাল'এ এক লক্ষ টাকা যৌতুক দাবীর অভিযোগে নারী ও শিশ নির্যাতন দমন আইন'২০০০(সংশোধিত'২০০৩) এর ১১(গ)/৩০ ধারায় 'ফৌজদারী দরখাস্ত' (মামলা) দায়ের করলে, বিজ্ঞ বিচারক (নারী জজ) মামলাটি আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট 'থানার অফিসার ইনচার্জ কে মামলাটি এজাহার হিসেবে গণ্য করে নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু করার নির্দেশ' দেন। থানার ওসি যথারীতি মামলাটি GR মামলা হিসেবে রুজু করে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে প্রেরণ করে। মামলাটিতে চার্জসীট দাখিলের আগ্ পর্যন্ত স্বামী ইমরান ও তার বৃদ্ধ মা-বাবা ঐ মামলায় (আমলযোগ্য/জি.আর মামলা রুজু হওয়ার থেকেই ) ওয়ারেন্ট হয়ে আত্মগোপনে থেকে বাদী ইয়াছমিনের সাথে আপোষের চেষ্টা করতে থাকে। আপোষের কথাবার্তাও চূড়ান্ত হয়। এর মধ্যে ঐ মামলায় আসামী ইমরান পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলে, স্ত্রী অর্থাৎ বাদী ছুটে যায় থানায়- থানার ওসি/দারোগা'কে আপোষের কথা বলে, ইমরান কে ছেড়ে দিতে অনুরোধ করলেও, ওয়ারেন্ট আসামী ছেড়ে দেয়ার সুযোগ না থাকায়, ইমরানকে ইয়াছমিনের দায়েরকৃত মামলা যে আদালতে চলমান, সেই সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়। ইমরানের আইনজীবী জামিনের আবেদন করলে, বাদী ইয়াছমিন আইনজীবী আদালতে দাড়িঁয়ে 'আসামীর (স্বামী) সাথে আপোষ হয়ে সুখে দাম্পত্য কাটানোর কথা বলে আসামীর জামিনে অনাপত্তির আবেদন জানায়। উভয়পক্ষের শুনানীক্রমে (ট্রাইব্যূনালে বিচার্জ মামলায় ম্যাজিষ্ট্রেটের জামিন দেয়ার এখতিয়ার না থাকায়) আসামীর জামিন নামঞ্জুর করে, ইমরান কে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপরে ম্যাজিষ্ট্রেটের জামিন নামঞ্জুরের আদেশের সহিমুহুরী নকল কপি নিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যূনালে 'বিপি মিচ' মামলা মূলে জামিনের আবেদন করে নিম্ন আদালতের নথি তলব , জামিন শুনানী শেষে দীর্ঘ দেড় মাস পরে আসামী ইমরান কারামুক্তি পায়!,,,,
ঘটনাচিত্র-২:জুলেখা ও আনোয়ার ভালোবেসে দুই পরিবারের অমতে বিয়ে করেন ২০১০ সালে। সময়ের পরিক্রমায় উভয় পরিবারই বিয়ে মেনে নেয়। সামাজিকভাবে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁদের নতুন সংসার শুরু হয়। দুজনই উচ্চশিক্ষিত। আনোয়ার বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে উচ্চবেতনে (মাসিক ৮০ হাজার টাকা) চাকরি করেন। সাংসারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জুলেখার সঙ্গে তাঁর ননদ, শ্বশুর, শাশুড়ি, ভাশুর ও ভাবির মতানৈক্য হয়। এক বছরের মাথায় বিয়ে ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়। জুলেখা তাঁর ব্যবহার্য কাপড়চোপড়, অলংকার প্রভৃতি নিয়ে পিত্রালয়ে গমন করেন। আনোয়ার অনেক চেষ্টা করেও জুলেখাকে ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হন। জুলেখা মামলা করার সিদ্ধান্ত নেন। স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছ থেকে আঘাতসংক্রান্ত সনদ নিয়ে স্বামী, অশীতিপর বৃদ্ধ শ্বশুর, শাশুড়ি, ননদ, ভাশুরও ভাবিকে আসামি করে এক লাখ টাকা যৌতুক দাবি এবং মারধরের অভিযোগে স্থানীয় থানায় প্রভাব খাটিয়ে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০’-এর ১১(গ) ধারায় মিথ্যা অভিযোগ করেন। পুলিশ গভীর রাতে তাঁদের সবাইকে আটক করে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠায়। জামিনের আবেদন করা হলে বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট আদালত মামলাটি বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক বিচার্য এবং জামিনের আবেদন বিবেচনা করার এখতিয়ার নেই, এ কারণে আবেদন নামঞ্জুর করে সবাইকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ঘটনাচিত্র-৩: হাসিনা কলেজপড়ুয়া ছাত্রী। কলেজে প্রায়ই একটি ছাত্রসংগঠনের সভাপতি রিয়াজুল ও তাঁর সহযোগীরা হাসিনা কে উত্ত্যক্ত করতেন। অতিষ্ঠ হয়ে হাসিনা কলেজের অধ্যক্ষ ও অভিভাবকদের বিষয়টি জানান। হাসিনার পরিবার থানায় জিডি করে। অধ্যক্ষ ও অভিভাবকেরা রিয়াজুলকে মৌখিকভাবে সতর্ক করেন। এতে ক্ষিপ্ত রিয়াজুল কলেজ শেষে ফেরার পথে এক দিন বর্ষাকে অপহরণ করেন এবং সহযোগীরাসহ হাসিনা কে ধর্ষণ করেন। উপর্যুপরি ধর্ষণের কারণে ঘটনাস্থলেই হাসিনা মারা যান। স্থানীয় এক খাল থেকে পরদিন ভোরে বিবস্ত্র হাসিনার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। শোকে স্তব্ধ হাসিনার বাবা থানায় মামলা করেন। পুলিশ রিয়াজুল ও তাঁর সহযোগীদের আটক করে এবং বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট সব অভিযুক্ত ব্যক্তির জামিনের আবেদন নাকচ করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ওপরের ৩ টি ঘটনা কল্পিত কোনো বিষয় নয়।
প্রতিদিন পত্রিকার পাতা উল্টালে এর চেয়েও নৃশংস, করুণ ঘটনা আমাদের চোখে পড়ে। 
৩য় ঘটনায় জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করা ন্যায়বিচারের জন্যই প্রয়োজনীয়। কারণ, সংঘটিত অপরাধটি নৃশংস এবং ঘৃণ্য প্রকৃতির। বিচারকার্য সম্পন্ন হওয়ার পুরো সময়ই তাঁদের জেলহাজতে রাখা উচিত। আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় জামিন পেলে তাঁরা অবশ্যই মামলার গতি-প্রকৃতি ভিন্ন পথে প্রবাহিত করতে বা সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে উপযুক্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপনে বাধা দিতে পারেন।

কিন্তু ১ম ও ২য় মামলা দু'টিতে সবাইকে জেলহাজতে প্রেরণ নিঃসন্দেহে অবিচার। শুধু ভুল বুঝাবুঝি থেকে ১ম মামলাটি ও হয়রানি করার ২য় মামলাটি করা হয়েছে, তা মামলার ঘটনা এবং ঘটনা ও সংযুক্ত কাগজপত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়। ২য় মামলায় যে ব্যক্তি মাসে ৮০ হাজার টাকা বেতন পান, তিনি কখনোই শুধু এক লাখ টাকা যৌতুক দাবি করবেন না। উপরন্তু, সরকারি হাসপাতাল কর্তৃক প্রদানকৃত কোনো সনদ নেই। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটের আইনানুযায়ী এ ক্ষেত্রে কোনো কিছু করার নেই। কারণ, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ম্যাজিস্ট্রেটকে জামিন প্রদানের কোনো ক্ষমতাদেওয়া হয়নি। করা হয়েছে বিজ্ঞ ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল’কে। অথচ থানায় দায়ের হওয়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে প্রতিটি মামলা পুলিশ রিপোর্ট (অভিযোগপত্র বা চূড়ান্ত প্রতিবেদন) দাখিল করার আগপর্যন্ত ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে থাকে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর জামিনের বিধানসংক্রান্ত ১৯(২) ধারাটি নিম্নরূপ:
‘উপধারা (৩)-এর বিধান সাপেক্ষে, এ আইনের অধীন শাস্তিযোগ্য অপরাধ সংঘটনে জড়িত মূল এবং প্রত্যক্ষভাবে অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তিকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হইবে না, যদি—
ক. তাঁহাকে মুক্তি দেওয়ার আবেদনের ওপর অভিযোগকারী পক্ষকে শুনানির সুযোগ দেওয়া না হয়; এবং
খ. তাঁহার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগে তিনি দোষী সাব্যস্ত হওয়ার যুক্তিসংগত কারণ রহিয়াছে মর্মে আদালত সন্তুষ্ট হন;
অথবা
(৩) উপধারা (২)-এ উল্লিখিত কোনো ব্যক্তি নারী বা শিশু হইলে কিংবা শারীরিকভাবে অসুস্থ হইলে, সে ক্ষেত্রে ওই ব্যক্তিকে জামিনে মুক্তি দেওয়ার কারণে ন্যায়বিচার বিঘ্নিত হইবে না মর্মে ট্রাইব্যুনাল সন্তুষ্ট হইলে তাঁহাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া যাইবে।
(৪) উপধারা (২)-এ উল্লিখিত ব্যক্তি ব্যতীত এ আইনের অধীন অপরাধ সংঘটনের জন্য অভিযুক্ত অন্য কোনো ব্যক্তিকে জামিনে মুক্তি দেওয়া ন্যায়সংগত হইবে মর্মে ট্রাইব্যুনাল সন্তুষ্ট হইলে তৎমর্মে কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ট্রাইব্যুনাল জামিনে মুক্তি দিতে পারিবে।’
এই ধারা থেকে সুস্পষ্ট, আইনপ্রণেতারা আইনটি কঠোরভাবে প্রয়োগ করে ক্রমবর্ধমান নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনাকে হ্রাস করার লক্ষ্যেই ‘জামিন’ এবং ‘অপরাধ আমলে নেওয়ার’ বা ‘তদন্তের নির্দেশ’ দেওয়ার ক্ষমতাকে ‘ট্রাইব্যুনাল’-এর কাছে অর্পণ করেছেন। কিন্তু আইনপ্রণেতাদের এই সদিচ্ছার অনেকটাই চাপা পড়েছে অসৎ এবং ধুরন্ধর ব্যক্তি কর্তৃক ক্রমাগত আইনটির অপব্যবহারের জন্য। আইনটি যতখানি ভালো, ঠিক ততখানিই কঠোর। এই আইনে মিথ্যা মামলা করার জন্য সাজার বিধান রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে এই আইনে মিথ্যা মামলা বা অভিযোগ করার জন্য কোনো অভিযোগকারী বা এজাহারকারীর সাজা হয়েছে, এমন উদাহরণ অপ্রতুল। আইনটি অনেকটা হয়ে পড়েছে আতঙ্কের। এখন কেউ কাউকে হুমকি দিতে হলেও বলে, ‘নারী-শিশু মামলা দিয়ে তোমাকে জেলের ভাত খাওয়াব।’ প্রথম ঘটনায় মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হলে অবশ্যই অভিযোগকারীকে সাজাদেওয়া উচিত। কিন্তু অভিযোগকারী মহিলা হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল অভিযোগকারীকে মিথ্যা মামলা দায়েরের জন্য স্বাভাবিকভাবেই সাজা দেবেন না। কিন্তু মিথ্যা মামলায় একটি পরিবারের সদস্যরা যে জেলহাজতে ঘুরে এলেন, অবর্ণনীয় মানসিক এবং শারীরিক যন্ত্রণার শিকার হলেন, সামাজিকভাবে হেয় হলেন; সর্বোপরি, মিথ্যা মামলাকারী অভিযোগকারীর অভিপ্রায় পূরণ হলো আদালত এবং আইনের জাঁতাকলের মাধ্যমে, তার ক্ষতিপূরণ কে দেবে? কখনো কি এর আর্থিক মূল্য নির্ধারণ করা সম্ভব? বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে প্রশিক্ষণকালেও ম্যাজিস্ট্রেটদের বলা হয়েছে, এ আইনের অধীনে জামিন প্রদান না করতে। জামিনের আবেদন যদি ‘নামঞ্জুর’ করা যায়, তবে ম্যাজিস্ট্রেট কেন প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ‘মঞ্জুর’ করতে পারবেন না বা তাহলে প্রাথমিকভাবে নিরপরাধ বলে প্রতীয়মান হওয়া কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তির জেলহাজতে যাওয়াই অমোঘ নিয়তি কি না, সে প্রশ্নের কোনো সদুত্তর মেলেনি। আদালতে আইন অনুযায়ীই ক্ষমতাহীন হয়ে থাকা সম্ভবত সবচেয়ে বড় অসহায়ত্ব। নির্মম পরিহাস হলো, এ ক্ষেত্রে বিজ্ঞ কৌঁসুলি, আসামি, প্রসিকিউশন—সবাই জানেন, আবেদন নামঞ্জুর হবে। তবু অহেতুক শুনানি নামের পরিহাস ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মঞ্চস্থ হয়ে থাকে।
একজন ব্যক্তি যখন আদালতে অভিযুক্ত হয়ে আসেন, প্রথম আশঙ্কাটির উদ্ভব হয় ‘জামিন’ নিয়ে। কারণ বিষয়টি সামাজিক, আর্থিক, মানসিক, শারীরিক, সর্বোপরি ব্যক্তিস্বাধীনতার সঙ্গে জড়িত। এ জন্যই জামিনের বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। স্পষ্টত, জামিনসংক্রান্ত এই বিধান নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর একটি অন্তর্নিহিত দুর্বলতা।
ঢাকা ভিন্ন বাংলাদেশের প্রায় সব জেলায় ‘ম্যাজিস্ট্রেট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর অধীনে জামিন প্রদান করবেন না’—এ নীতি অনুসরণ করা হয়। অনেক সময় ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারকেরা এ আইনে ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক জামিন প্রদানকে তাঁদের এখতিয়ারে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে বলে মনে করেন। অনেক সময় ম্যাজিস্ট্রেটদের মৌখিকভাবে সরাসরি নিষেধও করা হয়। এমনকি এ আইনের অধীনে জামিন দেওয়ার কারণে ম্যাজিস্ট্রেটকে কারণও দর্শাতে বলা হয় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে, সশরীরে বিজ্ঞ ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হয়ে। বিষয়টি একজন ম্যাজিস্ট্রেটের জন্য নিঃসন্দেহে হতাশাজনক, বিব্রতকর এবং অপমানজনক। প্রতিটি আদালত আইন অনুযায়ী সৃষ্ট এবং আইন প্রয়োগ করে থাকেন। শুধু আইন অনুযায়ী, তথ্য-উপাত্ত এবং উচ্চ আদালত কর্তৃক ঘোষিত জামিনসংক্রান্ত নীতিমালা অনুসরণ করেই ম্যাজিস্ট্রেট জামিন আবেদনের নিষ্পত্তি করে থাকেন। ফজলুর রহমান বনাম রাষ্ট্র মামলার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে একজন ম্যাজিস্ট্রেট নিঃসন্দেহে এ আইনে ভিকটিম, এজাহারকারী ও প্রসিকিউশনকে শুনানির যুুক্তিসংগত সময় দিয়ে এবং শুনানি করে যদি অভিযুক্ত অভিযোগে দণ্ডিত হওয়ার পর্যাপ্ত উপাদান নেই বলে মনে করেন, তবে অবশ্যই জামিন দিতে পারেন।
কঠোর আইন অনেক সময়ই কঠোরতার জন্ম দিয়ে থাকে। মানুষের মঙ্গলের এবং নিষ্কলুষ সমাজের সুরক্ষার জন্যই আইন করা হয়ে থাকে। আইন-আদালতের জাঁতাকলে যেন অপরাধীই পিষ্ট হয়, যেন কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি হয়রানির শিকার না হয়। একটি ভালো আইন সমাজ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখতে পারে। আমরা সেই ভালোরই প্রত্যাশা করি।

Source: বাংলাদেশের আইন কানুন

যৌতুক মামলায় কেমন সাজা হতে পারে?





২০০৫ সালের অক্টোবরে আমি বিয়ে করি। বিয়ের আড়াই বছর পর নিরাপত্তারক্ষীর চাকরি করতে ঢাকায় আসি। দু-এক মাস অন্তর ছুটিতে বাড়ি যেতাম। কিন্তু চাকরির ছয় মাস পর আমার স্ত্রী আমাদের বাড়ি থেকে একদিন রাতে উধাও হয়ে যায়। ওই রাতে আমার বাড়ির সদস্য ও প্রতিবেশীরা অনেক খোঁজাখুঁজির পর রাত সাড়ে ১২টায় পাশের বাড়ির এক ছেলের ঘরে ওকে খুঁজে পায়। এর পরদিন সকালেই আমার স্ত্রীকে তার বড় ভাই বাড়ি নিয়ে যায়। এদিকে আমি খবর পেয়ে ঢাকা থেকে বাড়ি চলে যাই। এসে জানলাম, ঘটনাটি সত্য। ঘটনার পাঁচ দিন পর ওই ছেলে অন্য একটি মেয়েকে বিয়ে করে। পরের ছয় মাস স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করিনি। ২০০৯ সালের ২১ মে কাজি অফিস থেকে তালাকের নোটিশ স্ত্রীর কাছে ডাকযোগে পাঠিয়ে দিই। স্ত্রী আমার বিরুদ্ধে ওই বছরের ২০ জুলাই যৌতুক নিরোধক আইনের ৪ ধারা ও দেনমোহর খোরপোশের দুটি মামলা করে। মামলার সাত দিন আগে আমার স্ত্রীকে আনতে গিয়েছিলাম। কিন্তু সে আসতে চায়নি। ২০ জুলাই হাজিরা দিলে আদালত আমাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন। এখন মামলা দুটি বিচারাধীন। আমি আর স্ত্রীকে কখনো গ্রহণ করব না। তাই ২০১০ সালের ৩ মার্চ তিন তালাক রেজিস্ট্রি করে কপি নিজের কাছে রাখি। আমি একটি টাকাও যৌতুক নিইনি। যৌতুক মামলায় যদি আমার পরাজয় হয়, তাহলে কেমন সাজা হতে পারে? ৪০ হাজার এক টাকা দেনমোহরে আমার বিয়ের কাবিন হয়। এই কাবিনের পুরো টাকা কী দিতে হবে? খোরপোশ কী পরিমাণ দিতে হবে? আমি অন্য কোনো মেয়েকে বিয়ে করতে পারব কি?

মো. রফিকুল ইসলাম, সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম।

আইনজীবীর পরামর্শ : আপনার চিঠির প্রথম প্রশ্নের উত্তরে বলা যায়, যৌতুক নিরোধ আইন, ১৯৮০-এর ধারা ৪-এ সর্বোচ্চ শাস্তি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা জরিমানা অথবা কারাদণ্ড ও জরিমানা উভয়ই হতে পারে। এ আইনের আওতায় ন্যূনতম শাস্তি এক বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
দ্বিতীয় প্রশ্নের জবাব হলো, আপনাকে কাবিননামার পুরো ৪০ হাজার টাকা আপনার স্ত্রীকে পরিশোধ করতে হবে। যদি না আগে আপনি দেনমোহরের অংশবিশেষ পরিশোধ করে থাকেন। মুসলিম আইন অনুযায়ী বৈবাহিক সম্পর্ক বিচ্ছেদের পর পরবর্তী তিন মাস পর্যন্ত খরপোশ প্রদানযোগ্য। ওই খরপোশের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয় স্বামী ও স্ত্রীর সামাজিক অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে।
আপনি চিঠিতে তালাকের নোটিশের কথা উলে¬খ করেছেন, কিন্তু মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১-এর বিধান অনুযায়ী তালাকের নোটিশ সংশি¬ষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা সিটি করপোরেশনের মেয়রকে পাঠাতে হবে। ওই নোটিশ পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে চেয়ারম্যান অথবা মেয়র দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা চালাবেন। সমঝোতায় ব্যর্থ হলে সেই ৯০ দিন পর তালাক কার্যকর হবে। তালাক কার্যকর হওয়ার পর আপনার দ্বিতীয় বিয়েতে আর কোনো বাধা নেই। চিঠির বক্তব্য অনুযায়ী আপনার তালাক এখনো কার্যকর হয়নি। এ অবস্থায় আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া যদি আপনি বিয়ে করেন, তবে আপনার স্ত্রী আপনার বিরুদ্ধে মামলা করতে পারেন এবং সে ক্ষেত্রে এক বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

পরামর্শ দিয়েছেন

অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল কবীর, বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট
 
Copyright © 2019 Bangla Law School
Design and Developed By BanglaLawSchool. Powered by Bangla Law School