RECENT POST

নোটিশ বোর্ড

মডেল টেস্ট

আইনের চাকরি

From our Blog

28 November 2018

“দেনমোহর, ভরণপোষণ ও সন্তানের কাস্টডি”




ফাহরিয়া ফেরদৌস: মেয়ে নিজে যদি তালাক দেন তবে দেনমোহর পাবেন কিনা? যদি সন্তান থেকে থাকে, আর মেয়েটি তালাকের পর দেনমোহর বা ভরণপোষণ দাবি করেন তবে সেক্ষেত্রে “মা” তাঁর বাচ্চার কাস্টডি হারাবেন কিনা বা বাবা বাচ্চা নিয়ে যাবে কিনা?



অধিকাংশ মেয়েরই ধারণা থাকে যে, সে যদি দেনমোহর বা ভরণপোষণ দাবি করেন তবে এতে প্রমাণিত হয় যে, তিনি সন্তান পালনে অক্ষম এবং কোর্ট তার এই চাওয়াটিকে অযোগ্যতা ভেবে বাচ্চা বাবাকে দিয়ে দিবে। মানুষ বিয়েটি খুব সহজভাবে করতে পারলেও এর সাথে সম্পর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে কোন ধারণাই রাখেন না, বা ভ্রান্ত ধারণা পোষণ করে থাকেন।   বিয়ে বিচ্ছেদের পর এ দুইটি প্রশ্ন খুব কমন যা মেয়ে বা মেয়ে পক্ষ থেকে পাওয়া যায়। খুব অবাক করা একটি বিষয় আমি দেখেছি এই প্রশ্নটি বেশি আসে মধ্যবিত্ত এবং উচ্চবিত্ত শ্রেণীর মেয়েদের থেকে!! অধিকাংশ সময়ই মেয়েটি শিক্ষিত অর্থাৎ লেখাপড়া জানা হয়, এমনকি তারা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাও হয়ে থাকেন!
তালাকের পর একজন মেয়ের দেনমোহরের সাথে বাচ্চার কাস্টডির কোন সম্পর্ক নেই। দেনমোহর ও ভরণপোষণ চাওয়া কোনভাবেই বাচ্চার কাস্টডির অধিকার লঙ্ঘিত করে না। এটি প্রমাণ করে না যে আপনি সন্তান পালনে অক্ষম।
আইনগত ভাবে, বাচ্চাটি যদি ছেলে হয় তাহলে সাত বছর পর্যন্ত এবং মেয়ে বাচ্চা হলে সাবালিকা হওয়া পর্যন্ত মায়ের কাছে থাকবে। তবে অনেক সময় পারিপার্শ্বিক অবস্থার উপর ভিত্তি করে এর পরিবর্তন হতে পারে।
দেনমোহর একজন মেয়ের অধিকার। এই দেনমোহর পাবার অধিকার একজন মেয়ে কোনভাবেই হারান না, যদি না তিনি নিজে এটি নেয়াতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। কোন মেয়ে নিজে তালাক দিক বা অপরপক্ষ থেকে তালাক দেয়া হোক, মেয়েটি তালাকের নোটিশ পাবার পরই দেনমোহর দাবি করতে পারেন। এতে কোন বাধা নেই। আবার তালাকটি কার্যকর হবার পরও দেনমোহর দাবি করতে পারেন। তবে অবশ্যই সেটি তিন বছরের মাঝে হতে হবে।
মৌখিকভাবে কোন মেয়ে নিজেই বা ভাইবোন, আত্মীয়, বন্ধু দ্বারা দেনমোহর দাবি করতে পারেন। যদি অপরপক্ষ দেনমোহর দিতে রাজি থাকে তবে এই বিষয়টি কোর্টে না এসেও সমাধান করা যায়। উভয় পক্ষের সম্মতিতে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ও স্বাক্ষর নিয়ে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে সমস্ত শর্তাবলী লিখে একটি লিখিত চুক্তি তৈরির মাধ্যমে সমস্যাটি সমাধান করা যেতে পারে।
আর যদি এরকম ভাবে সমস্যা সমাধান না হয় তবে কোর্টে যেয়েও দেনমোহর দাবি করতে পারেন। কোর্ট চাইলে একবারে অথবা কিস্তিতে দেনমোহর ও ভরণপোষণ পরিশোধ করার আদেশ দিতে পারেন। মেয়ে তালাকের নোটিশ পাবার পর থেকে তিন মাস এবং তালাক কার্যকরি হবার পর ইদ্দতকালীন তিন মাসের ভরণপোষণ অবশ্যই পাবেন; আর মেয়েটি যদি গর্ভবতী হয়ে থাকে, তবে সন্তান প্রসব হওয়া পর্যন্ত মেয়েটি ভরণপোষণ পাবেন।
তার যদি কোন পূর্ববর্তী ভরণপোষণ বাদ যেয়ে থাকে, চাইলে সেটিও একই সাথে দাবি করতে পারেন। তবে অধিকাংশ সময়ই এটি প্রমাণ করা কঠিন হয়ে পড়ে যে, বিয়ে বলবৎ থাকা অবস্থায় মেয়েটিকে তার স্বামী ভরণপোষণ দেননি। দেনমোহর ও ভরণপোষণের মামলা অবশ্যই বিয়ের কাবিননামা, তালাকের নোটিশ অথবা তালাক কার্যকর হয়ে গেলে তালাকের সার্টিফিকেট এবং দুইজন সাক্ষী সমেত মামলাটি দায়ের করতে হয়।
যে কাজীর কাছে বিয়ে পড়ানো হয়, সেই কাজী অফিস থেকে বিয়ের কাবিননামা যতবার খুশি ততবার তোলা যায়। আবার যে তালাকের নোটিশ পাঠানো হয়, সেখানে সংশ্লিষ্ট কাজী অফিসের ঠিকানা দেয়া থাকে,  সেখান থেকে প্রয়োজনমতো তালাকের সার্টিফিকেট তোলা যায়।         
ফাহরিয়া ফেরদৌস
আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট  

বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস পরীক্ষার সিলেবাস


Bangladesh Judicial Service Commission (BJS) Exam Syllabus And Mark Distribution 2018.Bangladesh Judicial Service Commission’s (BJSC) is responsible for assessing candidates for appointments at the entry level of the Bangladesh Judicial Service by conducting examinations. The entry level post at the Judicial Service is Assistant Judge/Judicial Magistrate. এই ভিডিও থেকে আপনি বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস পরীক্ষার সিলেবাস ২০১৮ সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পাবেন।হয়তো এই ২০ মিনিটের ভিডিও আপনার জীবন পাল্টে দিবে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০.PDF

বিচারক-আইনজীবী ‘ফেসবুক ফ্রেন্ড’ হতে বাধা নেই

তথ্যপ্রযুক্তির এ যুগে সকলেই যখন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বুঁদ হয়ে আছে ঠিক সেই সময়ে ফ্লোরিডা সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা হল একটি অদ্ভুত মামলা। আর তা হল কোন আদালতের বিচারপতি এবং সেই আদালতেরই কোনো আইনজীবী কি একে অপরের ফেসবুক ফ্রেন্ড হতে পারেন? এই প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট করল আদালত। বললেন বিচারক এবং আইনজীবী ‘ফেসবুক ফ্রেন্ড’ হতে বাধা নেই। খবর লাইভ ল’ ডট ইন
ফ্লোরিডার সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছিল একটি সংস্থা। তাদের দাবি ছিল, বিচারক যদি ফেসবুকে কোনো আইনজীবীর ফেসবুক ফ্রেন্ড হন, তা বলে কোনো মামলায় সেই বন্ধুত্বের প্রভাব পড়তেই পারে।
আদালত বলেছে, ফেসবুকের বন্ধু আর বাস্তবের বন্ধুত্বের মধ্যে আকাশ-পাতাল ফারাক। তা বন্ধুত্ব থাকাটা কোনো অপরাধ নয়। বন্ধুত্বের সঙ্গে পেশাগত কারণের কী সম্পর্ক থাকতে পারে। বিষয়টা আইনের এবং অপরাধীকে চিহ্নিত করার। উল্টো দিকে অন্যায়ের শিকার হওয়ার ব্যক্তিকে ন্যায় পাইয়ে দেওয়া। ফলে বিচারক এবং আইনজীবীর সঙ্গে ফেসবুক বন্ধুত্ব থাকার মানে মোটেই এমন নয় যে, বিচারক আইন বিরুদ্ধ কোনো রায় দেবেন!
আদালত বেশ অর্থবহ ভাবেই বলেছে, ফেসবুকের ফ্রেন্ড হয়তো কারও বন্ধু হতেও পারে আবার নাও হতে পারে। কারণ, ফেসবুকে ফ্রেন্ড হওয়া সমস্ত বন্ধুকেই কেউ সশরীরে নাও চিনতে পারেন। এ ব্যাপারে নিজের ফেসবুক ফ্রেন্ডলিস্টে চোখ রাখলেই স্পষ্ট হয়ে যায়।
বলে রাখা ভালো, মামলাটি করেছিল একটি ল’ ফার্ম। তারা দাবি করেছিল, বিচারক এবং আইনজীবী ফেসবুক ফ্রেন্ড হলে বিচারক কোনো মামলায় পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণ করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে পুরো মামলার রায়ে তার প্রভাব পড়ে।

দণ্ডবিধিতে নারীর অধিকার


নুরে আলম
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম  তার কবিতায় বলে গেছেন,’বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর।’
আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিক সমান । আধুনিক সমাজ ব্যবস্থায় নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্র সর্বদা সচেতন।  নারীরা শারীরিক ভাবে পুরুষের চেয়ে কম শক্তিশালী বলে তারা বিভিন্ন ভাবে নির্যাতনের শিকার হয়। প্রতিটি রাষ্ট্রে নারী সুরক্ষায় তাদের নিজস্ব আইন রয়েছে। বাংলাদেশও নারী অধিকারে কঠোর আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭,যৌতুক নিরোধ আইন ১৯৮০,  জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি- ২০১১  ইত্যাদি। সকল প্রকার অপরাধ কে প্রতিহত করার  মূল ও আদি আইন হল দণ্ড বিধি ১৮৬০। যদিও ব্রিটিশ শাসন আমলের এই আইন আমাদের এই উপমহাদেশে কার্যকর হয় তবুও আমারা এই আইন মেনে চলছি। তাই সকল প্রকার যুক্তির উপরে বলা যায় দণ্ডবিধি এখন আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় কার্যকর বলেই আমরা দণ্ডবিধি মেনে চলি। দণ্ডবিধিতে নারীদের সুরক্ষার জন্য বেশ কয়েকটি শক্তিশালী ধারা রয়েছে। নারী সুরক্ষায় মৃত্যুদণ্ডের বিধান পর্যন্ত রয়েছে। দণ্ডবিধি পর্যালোচনা করলে  নারী সুরক্ষায় যে সকল বিধান পাওয়া যায় সেগুলো যদি আইনি ব্যবস্থায় ও সমাজে যথাযথ ভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব হয় তবে আর আমাদের আর কোন দিন নারী নির্যাতনের ঘটনা শুনতে হবে না। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পাবে নারী নির্যাতন মুক্ত সুন্দর সমাজ ।  আমাদের সকলের দণ্ডবিধির ধারা গুলো জানা প্রয়োজন ।
দণ্ডবিধির ৩১২ ধারায় গর্ভপাত মৃত্যু  সম্পর্কে বলা হয়েছে, কোন ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে গর্ভবতী স্ত্রীলোকের গর্ভপাত করায়, এবং যদি সে গর্ভপাত সরল বিশ্বাসে উক্ত স্ত্রীলোকের জীবন বাঁচাবার উদ্দেশ্যে না করা হয়ে থাকে, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে; এবং যদি স্ত্রীলোকটি শিশুর বিচরণ অনুভব করে, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।ব্যাখ্যা যে স্ত্রীলোক নিজেই নিজের অকাল গর্ভপাত করায়, সে স্ত্রীলোকও এই ধারার অর্থের অন্তর্ভুক্ত হবে।
দণ্ডবিধির ৩১৩ ধারায় স্ত্রীলোকের সম্মতি ছাড়া গর্ভপাত সম্পর্কে বলা হয়েছে, কোন ব্যক্তি যদি পূর্ববর্তী ধারায় বর্ণিত অপরাধটি সংশ্লিষ্ট স্ত্রীলোকের সম্মতি ছাড়া সম্পাদন করে-স্ত্রীলোকটি আসন্ন প্রসব হোক বা না হোক- তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
দণ্ডবিধির  ৩১৪ ধারায় গর্ভপাত করানোর উদ্দেশ্যে কৃত কাজের ফলে মৃত্যু  সম্পর্কে বলা হয়েছে, কোন ব্যক্তি যদি কোন গর্ভবতী স্ত্রীলোকের গর্ভপাত করানোর উদ্দেশ্যে কৃত কোন কাজের ফলে সে স্ত্রীলোকটির মৃত্যু ঘটায়, তবে সে ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।   যদি কাজটি সে স্ত্রীলোকটির সম্মতি ছাড়া করা হয়ে থাকে, তবে সে ব্যক্তি হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে, কিংবা উপরোল্লিখিত দণ্ডে দণ্ডিত হবে।
দণ্ডবিধির ৩৬৬ ধারায় কোন নারীকে বিবাহ ইত্যাদিতে বাধ্য করার অভিপ্রায়ে অপহরণ বা হরণ বা প্রলুব্ধকরণ সম্পর্কে বলা হয়েছে, কোন ব্যক্তি যদি কোন নারীকে অপহরণ করে এবং অপহরণ করার উদ্দেশ্য হয় অথবা অপহরণ করার ফলে এইরূপ হবে জানে যে, সে নারীকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোন ব্যক্তিকে বিবাহ করতে বাধ্য করা অথবা তাকে অবৈধ সহবাসে জোরপূর্বক বা ফুসলিয়ে বাধ্য করা অথবা তাকে জোরপূর্বক, বা ফুসলিয়ে অবৈধ সহবাসে বাধ্য করা হতে পারে জানা সত্ত্বেও যদি তাকে অপহরণ করা হয়, তবে সে ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
দণ্ডবিধির ৩৭২ ধারায়  বেশ্যাবৃত্তি, প্রভৃতির উদ্দেশ্যে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিক্রয় সম্পর্কে বলা হয়েছে , কোন ব্যক্তি যদি আঠারো বৎসরের নিম্নবয়স্ক কোন ব্যক্তিকে বিক্রয় করে, ভাড়া দেয় বা অপর কোনভাবে বিলিব্যবস্থা করে এই উদ্দেশ্যে যে অথবা এটা জানা সত্ত্বেও যে, অনুরূপ ব্যক্তিকে কোন বিশেষ বয়সে বেশ্যাবৃত্তিতে বা অপর কোন ব্যক্তির সাথে অবৈধ সহবাসে কিংবা কোন বেআইনী ও নীতিবিগর্হিত কাজে ব্যবহৃত বা নিয়োজিত করা হবে, তবে সে ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
দণ্ডবিধির ৩৭৫  ধারায়  ধর্ষণ সম্পর্কে বলা হয়েছে, কোন পুরুষ অতঃপর উল্লেখিত ব্যতিক্রম ভিন্ন অপর সকল ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত পাঁচটি যেকোনো অবস্থায় কোন স্ত্রীলোকের সাথে যৌনসঙ্গম করলে সে ধর্ষণ করেছে বলে পরিগণিত হবে।
প্রথমত:-  স্ত্রীলোকটির ইচ্ছার বিরুদ্ধে ।
দ্বিতীয়ত:-  স্ত্রীলোকটির সম্মতি ব্যতিরেকে।
তৃতীয়ত:-স্ত্রীলোকটির সম্মতিক্রমেই, যেক্ষেত্রে মৃত্যু বা জখমের ভয় প্রদর্শন করে স্ত্রীলোকটির সম্মতি আদায় করা হলে।
চতুর্থত-  স্ত্রীলোকটির সম্মতিক্রমেই, যেক্ষেত্রে পুরুষটি জানে যে, সে স্ত্রীলোকটি স্বামী নয়, এবং পুরুষটি ইহার জানে যে, স্ত্রীলোকটি তাকে এমন অপর একজন পুরুষ বলে ভুল করেছে, যে পুরুষটির সাথে সে আইন সম্মত ভাবে বিবাহিত হয়েছে বা বিবাহিত বলে বিশ্বাস করে ।
পঞ্চমত:-  স্ত্রীলোকটির সম্মতিক্রমে অথবা সম্মতি ব্যতিরেকে, যতি স্ত্রীলোকটির বয়স চৌদ্দ বৎসরের কম হয়।
দণ্ডবিধির ৩৭৬ ধারায় ধর্ষণের সাজা সম্পর্কে বলা হয়েছে ,  কোন ব্যক্তি যদি ধর্ষণের অপরাধ করে, তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে, অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে, যদি না ধর্ষিত স্ত্রীলোকটি তার নিজ স্ত্রী হয় ও বারো বৎসরের কম বয়স্কা না হয়; যদি তদ্রূপ হয়, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
দণ্ডবিধির ৪৯৩ ধারায় কোন ব্যক্তি দ্বারা প্রতারণামূলকভাবে আইনসম্মত বিবাহের বিশ্বাসে প্ররোচিত করে স্বামী-স্ত্রীরূপে সহবাস করা সম্পর্কে বলা হয়েছে ,   কোন ব্যক্তি যদি যে নারী তার সাথে আইন সম্মত ভাবে বিবাহিত নয় সে নারীকে প্রতারণামূলক ভাবে বিশ্বাস করায় যে, সে নারী তার সাথে আইনসম্মত ভাবে বিবাহিত এবং সে নারীকে এই বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে তার সাথে সহবাসে বা যৌন সঙ্গমে প্রবৃত্ত করে, তবে উক্ত ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারায় স্বামী বা স্ত্রীর জীবদ্দশায় পুনরায় বিবাহ করা সম্পর্কে বলা হয়েছে ,  কোন ব্যক্তি যদি এক স্বামী বা এক স্ত্রী জীবিত থাকা সত্ত্বেও এমন কোন পরিস্থতিতে বিবাহ করে, যে পরিস্থিতিতে স্বামী বা স্ত্রী জীবিত থাকা অবস্থায় সংঘটিত বলে অনুরূপ বিষয়টি অবৈধ হয়েছে, তবে উক্ত ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে। স্বামী বা স্ত্রীর জীবদ্দশায় পুনরায় বিবাহ করা সম্পর্কে কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে।
দণ্ডবিধির ৪৯৫ ধারায় যে ব্যক্তির সঙ্গে পরবর্তী বিবাহের চুক্তি সম্পাদিত হয় তার কাছে পূর্ববর্তী বিবাহের তথ্য গোপন রেখে উক্ত অপরাধ সংঘটন সম্পর্কে বলা হয়েছে  , কোন ব্যক্তি যদি পরবর্তী বিবাহের চুক্তি যার সাথে সম্পাদিত করা হল তার নিকট থেকে পূর্ববর্তী বিবাহ সম্পর্কিত তথ্য গোপন রেখে পূর্ববর্তী সর্বশেষ ধারায় উল্লেখিত অপরাধ সংঘটন করে, তবে উক্ত ব্যক্তি দশ বৎসর যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
দণ্ডবিধির ৪৯৬ ধারায় আইনসম্মত বিবাহ সম্পাদন ছাড়াই প্রতারণামূলক ভাবে বিবাহ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা সম্পর্কে বলা হয়েছে ,  কোন ব্যক্তি যদি অসাধুভাবে বা প্রতারণামূলক উদ্দেশ্য নিয়ে সে আইনত: বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছে না জানা সত্ত্বেও বিবাহের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে, তবে উক্ত ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
দণ্ডবিধির  ৪৯৭ ধারায় ব্যভিচার সম্পর্কে বলা হয়েছে ,  কোন ব্যক্তি যদি অপর কোন ব্যক্তির স্ত্রী অথবা যাকে সে অন্য কোন ব্যক্তির স্ত্রী বলে জানে বা তার অনুরূপ বিশ্বাস করার কারণ আছে এমন কোন ব্যক্তির সাথে উক্ত অন্য ব্যক্তির সম্মতি ও সমর্থন ছাড়া এইরূপ যৌন সঙ্গম করে যা নারী ধর্ষণের সামিল নয়, তবে সে ব্যক্তি ব্যভিচারের অপরাধের জন্য দোষী হবে এবং তাকে সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত করা যাবে। অনুরূপ ক্ষেত্রে স্ত্রী ব্যক্তিটি দুষ্কর্মের সহায়তাকারী হিসেবে দণ্ডিত হবে না।
দণ্ডবিধির ৪৯৮ ধারায় কোন বিবাহিতা নারীকে অপরাধমূলক উদ্দেশ্যে প্রলুব্ধ করা বা অপহরণ বা আটক করা   সম্পর্কে বলা হয়েছে,  কোন ব্যক্তি যদি যে নারী অপর পুরুষের সাথে বিবাহিতা এবং তা সে জানে বা তার অনুরূপ বিশ্বাস করার কারণ রয়েছে, এইরূপ নারীকে কোন ব্যক্তির সাথে অবৈধ যৌনসঙ্গম করার উদ্দেশ্যে বিবাহিত পুরুষের নিকট থেকে বা সে পুরুষের স্বপক্ষে অপর যে ব্যক্তি সে নারীর তত্ত্বাবধায়ক সে ব্যক্তির নিকট থেকে অপহরণ বা প্রলুব্ধ করে নিয়ে যায়, বা অনুরূপ কোন নারীকে উপযুক্ত উদ্দেশ্যে গোপন বা আটক করে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
দণ্ডবিধির ৫০৯ ধারায় কোন নারীর শীলতাহানির  সম্পর্কে বলা হয়েছে, কোন ব্যক্তি যদি কোন নারীর শীলতাহানির উদ্দেশ্যে সে নারী যাতে শুনতে পায় এমন কোন কথা বলে বা শব্দ করে অথবা সে নারী যাতে দেখতে পায় এমন ভাবে কোন অঙ্গভঙ্গি করে বা কোন বস্তু প্রদর্শন করে অথবা অনুরূপ নারীর গোপনীয়তা অনধিকার লঙ্ঘন করে, তবে সে ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের বিনাশ্ৰম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
এই সকল ধারা নারী সুরক্ষার জন্য দণ্ডবিধিতে রয়েছে। তবুও সামাজিক কারণে আইন সঠিক ভাবে কার্যকর হতে পারে না। আইন কে সঠিক ভাবে কার্যকর করতে হলে প্রথমে আমাদের নিজেদের কে নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে এবং নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজন, আইনের প্রয়োগ ও ইতিবাচক সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রসার। আমদের পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় পুরুষদের মানসিকতা পরিবর্তন করলেই আমাদের সমাজ হতে নারী নির্যাতন অনেকাংশে নির্মূল হবে।
লেখক: শিক্ষানবিশ আইনজীবী এবং তদন্ত কর্মকর্তা, সোসাইটি ফর হিউম্যান রাইটস

Notice of Changed Office Address


 
Copyright © 2019 Bangla Law School
Design and Developed By BanglaLawSchool. Powered by Bangla Law School