RECENT POST

নোটিশ বোর্ড

মডেল টেস্ট

আইনের চাকরি

From our Blog

28 November 2018

বিচারক-আইনজীবী ‘ফেসবুক ফ্রেন্ড’ হতে বাধা নেই

তথ্যপ্রযুক্তির এ যুগে সকলেই যখন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বুঁদ হয়ে আছে ঠিক সেই সময়ে ফ্লোরিডা সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা হল একটি অদ্ভুত মামলা। আর তা হল কোন আদালতের বিচারপতি এবং সেই আদালতেরই কোনো আইনজীবী কি একে অপরের ফেসবুক ফ্রেন্ড হতে পারেন? এই প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট করল আদালত। বললেন বিচারক এবং আইনজীবী ‘ফেসবুক ফ্রেন্ড’ হতে বাধা নেই। খবর লাইভ ল’ ডট ইন
ফ্লোরিডার সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছিল একটি সংস্থা। তাদের দাবি ছিল, বিচারক যদি ফেসবুকে কোনো আইনজীবীর ফেসবুক ফ্রেন্ড হন, তা বলে কোনো মামলায় সেই বন্ধুত্বের প্রভাব পড়তেই পারে।
আদালত বলেছে, ফেসবুকের বন্ধু আর বাস্তবের বন্ধুত্বের মধ্যে আকাশ-পাতাল ফারাক। তা বন্ধুত্ব থাকাটা কোনো অপরাধ নয়। বন্ধুত্বের সঙ্গে পেশাগত কারণের কী সম্পর্ক থাকতে পারে। বিষয়টা আইনের এবং অপরাধীকে চিহ্নিত করার। উল্টো দিকে অন্যায়ের শিকার হওয়ার ব্যক্তিকে ন্যায় পাইয়ে দেওয়া। ফলে বিচারক এবং আইনজীবীর সঙ্গে ফেসবুক বন্ধুত্ব থাকার মানে মোটেই এমন নয় যে, বিচারক আইন বিরুদ্ধ কোনো রায় দেবেন!
আদালত বেশ অর্থবহ ভাবেই বলেছে, ফেসবুকের ফ্রেন্ড হয়তো কারও বন্ধু হতেও পারে আবার নাও হতে পারে। কারণ, ফেসবুকে ফ্রেন্ড হওয়া সমস্ত বন্ধুকেই কেউ সশরীরে নাও চিনতে পারেন। এ ব্যাপারে নিজের ফেসবুক ফ্রেন্ডলিস্টে চোখ রাখলেই স্পষ্ট হয়ে যায়।
বলে রাখা ভালো, মামলাটি করেছিল একটি ল’ ফার্ম। তারা দাবি করেছিল, বিচারক এবং আইনজীবী ফেসবুক ফ্রেন্ড হলে বিচারক কোনো মামলায় পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণ করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে পুরো মামলার রায়ে তার প্রভাব পড়ে।

দণ্ডবিধিতে নারীর অধিকার


নুরে আলম
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম  তার কবিতায় বলে গেছেন,’বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর।’
আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিক সমান । আধুনিক সমাজ ব্যবস্থায় নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্র সর্বদা সচেতন।  নারীরা শারীরিক ভাবে পুরুষের চেয়ে কম শক্তিশালী বলে তারা বিভিন্ন ভাবে নির্যাতনের শিকার হয়। প্রতিটি রাষ্ট্রে নারী সুরক্ষায় তাদের নিজস্ব আইন রয়েছে। বাংলাদেশও নারী অধিকারে কঠোর আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭,যৌতুক নিরোধ আইন ১৯৮০,  জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি- ২০১১  ইত্যাদি। সকল প্রকার অপরাধ কে প্রতিহত করার  মূল ও আদি আইন হল দণ্ড বিধি ১৮৬০। যদিও ব্রিটিশ শাসন আমলের এই আইন আমাদের এই উপমহাদেশে কার্যকর হয় তবুও আমারা এই আইন মেনে চলছি। তাই সকল প্রকার যুক্তির উপরে বলা যায় দণ্ডবিধি এখন আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় কার্যকর বলেই আমরা দণ্ডবিধি মেনে চলি। দণ্ডবিধিতে নারীদের সুরক্ষার জন্য বেশ কয়েকটি শক্তিশালী ধারা রয়েছে। নারী সুরক্ষায় মৃত্যুদণ্ডের বিধান পর্যন্ত রয়েছে। দণ্ডবিধি পর্যালোচনা করলে  নারী সুরক্ষায় যে সকল বিধান পাওয়া যায় সেগুলো যদি আইনি ব্যবস্থায় ও সমাজে যথাযথ ভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব হয় তবে আর আমাদের আর কোন দিন নারী নির্যাতনের ঘটনা শুনতে হবে না। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পাবে নারী নির্যাতন মুক্ত সুন্দর সমাজ ।  আমাদের সকলের দণ্ডবিধির ধারা গুলো জানা প্রয়োজন ।
দণ্ডবিধির ৩১২ ধারায় গর্ভপাত মৃত্যু  সম্পর্কে বলা হয়েছে, কোন ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে গর্ভবতী স্ত্রীলোকের গর্ভপাত করায়, এবং যদি সে গর্ভপাত সরল বিশ্বাসে উক্ত স্ত্রীলোকের জীবন বাঁচাবার উদ্দেশ্যে না করা হয়ে থাকে, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে; এবং যদি স্ত্রীলোকটি শিশুর বিচরণ অনুভব করে, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।ব্যাখ্যা যে স্ত্রীলোক নিজেই নিজের অকাল গর্ভপাত করায়, সে স্ত্রীলোকও এই ধারার অর্থের অন্তর্ভুক্ত হবে।
দণ্ডবিধির ৩১৩ ধারায় স্ত্রীলোকের সম্মতি ছাড়া গর্ভপাত সম্পর্কে বলা হয়েছে, কোন ব্যক্তি যদি পূর্ববর্তী ধারায় বর্ণিত অপরাধটি সংশ্লিষ্ট স্ত্রীলোকের সম্মতি ছাড়া সম্পাদন করে-স্ত্রীলোকটি আসন্ন প্রসব হোক বা না হোক- তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
দণ্ডবিধির  ৩১৪ ধারায় গর্ভপাত করানোর উদ্দেশ্যে কৃত কাজের ফলে মৃত্যু  সম্পর্কে বলা হয়েছে, কোন ব্যক্তি যদি কোন গর্ভবতী স্ত্রীলোকের গর্ভপাত করানোর উদ্দেশ্যে কৃত কোন কাজের ফলে সে স্ত্রীলোকটির মৃত্যু ঘটায়, তবে সে ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।   যদি কাজটি সে স্ত্রীলোকটির সম্মতি ছাড়া করা হয়ে থাকে, তবে সে ব্যক্তি হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে, কিংবা উপরোল্লিখিত দণ্ডে দণ্ডিত হবে।
দণ্ডবিধির ৩৬৬ ধারায় কোন নারীকে বিবাহ ইত্যাদিতে বাধ্য করার অভিপ্রায়ে অপহরণ বা হরণ বা প্রলুব্ধকরণ সম্পর্কে বলা হয়েছে, কোন ব্যক্তি যদি কোন নারীকে অপহরণ করে এবং অপহরণ করার উদ্দেশ্য হয় অথবা অপহরণ করার ফলে এইরূপ হবে জানে যে, সে নারীকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোন ব্যক্তিকে বিবাহ করতে বাধ্য করা অথবা তাকে অবৈধ সহবাসে জোরপূর্বক বা ফুসলিয়ে বাধ্য করা অথবা তাকে জোরপূর্বক, বা ফুসলিয়ে অবৈধ সহবাসে বাধ্য করা হতে পারে জানা সত্ত্বেও যদি তাকে অপহরণ করা হয়, তবে সে ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
দণ্ডবিধির ৩৭২ ধারায়  বেশ্যাবৃত্তি, প্রভৃতির উদ্দেশ্যে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিক্রয় সম্পর্কে বলা হয়েছে , কোন ব্যক্তি যদি আঠারো বৎসরের নিম্নবয়স্ক কোন ব্যক্তিকে বিক্রয় করে, ভাড়া দেয় বা অপর কোনভাবে বিলিব্যবস্থা করে এই উদ্দেশ্যে যে অথবা এটা জানা সত্ত্বেও যে, অনুরূপ ব্যক্তিকে কোন বিশেষ বয়সে বেশ্যাবৃত্তিতে বা অপর কোন ব্যক্তির সাথে অবৈধ সহবাসে কিংবা কোন বেআইনী ও নীতিবিগর্হিত কাজে ব্যবহৃত বা নিয়োজিত করা হবে, তবে সে ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
দণ্ডবিধির ৩৭৫  ধারায়  ধর্ষণ সম্পর্কে বলা হয়েছে, কোন পুরুষ অতঃপর উল্লেখিত ব্যতিক্রম ভিন্ন অপর সকল ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত পাঁচটি যেকোনো অবস্থায় কোন স্ত্রীলোকের সাথে যৌনসঙ্গম করলে সে ধর্ষণ করেছে বলে পরিগণিত হবে।
প্রথমত:-  স্ত্রীলোকটির ইচ্ছার বিরুদ্ধে ।
দ্বিতীয়ত:-  স্ত্রীলোকটির সম্মতি ব্যতিরেকে।
তৃতীয়ত:-স্ত্রীলোকটির সম্মতিক্রমেই, যেক্ষেত্রে মৃত্যু বা জখমের ভয় প্রদর্শন করে স্ত্রীলোকটির সম্মতি আদায় করা হলে।
চতুর্থত-  স্ত্রীলোকটির সম্মতিক্রমেই, যেক্ষেত্রে পুরুষটি জানে যে, সে স্ত্রীলোকটি স্বামী নয়, এবং পুরুষটি ইহার জানে যে, স্ত্রীলোকটি তাকে এমন অপর একজন পুরুষ বলে ভুল করেছে, যে পুরুষটির সাথে সে আইন সম্মত ভাবে বিবাহিত হয়েছে বা বিবাহিত বলে বিশ্বাস করে ।
পঞ্চমত:-  স্ত্রীলোকটির সম্মতিক্রমে অথবা সম্মতি ব্যতিরেকে, যতি স্ত্রীলোকটির বয়স চৌদ্দ বৎসরের কম হয়।
দণ্ডবিধির ৩৭৬ ধারায় ধর্ষণের সাজা সম্পর্কে বলা হয়েছে ,  কোন ব্যক্তি যদি ধর্ষণের অপরাধ করে, তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে, অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে, যদি না ধর্ষিত স্ত্রীলোকটি তার নিজ স্ত্রী হয় ও বারো বৎসরের কম বয়স্কা না হয়; যদি তদ্রূপ হয়, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
দণ্ডবিধির ৪৯৩ ধারায় কোন ব্যক্তি দ্বারা প্রতারণামূলকভাবে আইনসম্মত বিবাহের বিশ্বাসে প্ররোচিত করে স্বামী-স্ত্রীরূপে সহবাস করা সম্পর্কে বলা হয়েছে ,   কোন ব্যক্তি যদি যে নারী তার সাথে আইন সম্মত ভাবে বিবাহিত নয় সে নারীকে প্রতারণামূলক ভাবে বিশ্বাস করায় যে, সে নারী তার সাথে আইনসম্মত ভাবে বিবাহিত এবং সে নারীকে এই বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে তার সাথে সহবাসে বা যৌন সঙ্গমে প্রবৃত্ত করে, তবে উক্ত ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারায় স্বামী বা স্ত্রীর জীবদ্দশায় পুনরায় বিবাহ করা সম্পর্কে বলা হয়েছে ,  কোন ব্যক্তি যদি এক স্বামী বা এক স্ত্রী জীবিত থাকা সত্ত্বেও এমন কোন পরিস্থতিতে বিবাহ করে, যে পরিস্থিতিতে স্বামী বা স্ত্রী জীবিত থাকা অবস্থায় সংঘটিত বলে অনুরূপ বিষয়টি অবৈধ হয়েছে, তবে উক্ত ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে। স্বামী বা স্ত্রীর জীবদ্দশায় পুনরায় বিবাহ করা সম্পর্কে কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে।
দণ্ডবিধির ৪৯৫ ধারায় যে ব্যক্তির সঙ্গে পরবর্তী বিবাহের চুক্তি সম্পাদিত হয় তার কাছে পূর্ববর্তী বিবাহের তথ্য গোপন রেখে উক্ত অপরাধ সংঘটন সম্পর্কে বলা হয়েছে  , কোন ব্যক্তি যদি পরবর্তী বিবাহের চুক্তি যার সাথে সম্পাদিত করা হল তার নিকট থেকে পূর্ববর্তী বিবাহ সম্পর্কিত তথ্য গোপন রেখে পূর্ববর্তী সর্বশেষ ধারায় উল্লেখিত অপরাধ সংঘটন করে, তবে উক্ত ব্যক্তি দশ বৎসর যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
দণ্ডবিধির ৪৯৬ ধারায় আইনসম্মত বিবাহ সম্পাদন ছাড়াই প্রতারণামূলক ভাবে বিবাহ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা সম্পর্কে বলা হয়েছে ,  কোন ব্যক্তি যদি অসাধুভাবে বা প্রতারণামূলক উদ্দেশ্য নিয়ে সে আইনত: বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছে না জানা সত্ত্বেও বিবাহের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে, তবে উক্ত ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
দণ্ডবিধির  ৪৯৭ ধারায় ব্যভিচার সম্পর্কে বলা হয়েছে ,  কোন ব্যক্তি যদি অপর কোন ব্যক্তির স্ত্রী অথবা যাকে সে অন্য কোন ব্যক্তির স্ত্রী বলে জানে বা তার অনুরূপ বিশ্বাস করার কারণ আছে এমন কোন ব্যক্তির সাথে উক্ত অন্য ব্যক্তির সম্মতি ও সমর্থন ছাড়া এইরূপ যৌন সঙ্গম করে যা নারী ধর্ষণের সামিল নয়, তবে সে ব্যক্তি ব্যভিচারের অপরাধের জন্য দোষী হবে এবং তাকে সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত করা যাবে। অনুরূপ ক্ষেত্রে স্ত্রী ব্যক্তিটি দুষ্কর্মের সহায়তাকারী হিসেবে দণ্ডিত হবে না।
দণ্ডবিধির ৪৯৮ ধারায় কোন বিবাহিতা নারীকে অপরাধমূলক উদ্দেশ্যে প্রলুব্ধ করা বা অপহরণ বা আটক করা   সম্পর্কে বলা হয়েছে,  কোন ব্যক্তি যদি যে নারী অপর পুরুষের সাথে বিবাহিতা এবং তা সে জানে বা তার অনুরূপ বিশ্বাস করার কারণ রয়েছে, এইরূপ নারীকে কোন ব্যক্তির সাথে অবৈধ যৌনসঙ্গম করার উদ্দেশ্যে বিবাহিত পুরুষের নিকট থেকে বা সে পুরুষের স্বপক্ষে অপর যে ব্যক্তি সে নারীর তত্ত্বাবধায়ক সে ব্যক্তির নিকট থেকে অপহরণ বা প্রলুব্ধ করে নিয়ে যায়, বা অনুরূপ কোন নারীকে উপযুক্ত উদ্দেশ্যে গোপন বা আটক করে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
দণ্ডবিধির ৫০৯ ধারায় কোন নারীর শীলতাহানির  সম্পর্কে বলা হয়েছে, কোন ব্যক্তি যদি কোন নারীর শীলতাহানির উদ্দেশ্যে সে নারী যাতে শুনতে পায় এমন কোন কথা বলে বা শব্দ করে অথবা সে নারী যাতে দেখতে পায় এমন ভাবে কোন অঙ্গভঙ্গি করে বা কোন বস্তু প্রদর্শন করে অথবা অনুরূপ নারীর গোপনীয়তা অনধিকার লঙ্ঘন করে, তবে সে ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের বিনাশ্ৰম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
এই সকল ধারা নারী সুরক্ষার জন্য দণ্ডবিধিতে রয়েছে। তবুও সামাজিক কারণে আইন সঠিক ভাবে কার্যকর হতে পারে না। আইন কে সঠিক ভাবে কার্যকর করতে হলে প্রথমে আমাদের নিজেদের কে নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে এবং নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজন, আইনের প্রয়োগ ও ইতিবাচক সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রসার। আমদের পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় পুরুষদের মানসিকতা পরিবর্তন করলেই আমাদের সমাজ হতে নারী নির্যাতন অনেকাংশে নির্মূল হবে।
লেখক: শিক্ষানবিশ আইনজীবী এবং তদন্ত কর্মকর্তা, সোসাইটি ফর হিউম্যান রাইটস

Notice of Changed Office Address


ড. কামাল হোসেন নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না



ঢাকা–৬ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিতে এসে গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি ও ঐক্যফ্রন্টের নেতা সুব্রত চৌধুরী বলেছেন, ড. কামাল হোসেন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছে না। আজ বুধবার বেলা দেড়টার দিকে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে নিজের মনোনয়ন ফরম জমা দেন সুব্রত চৌধুরী।

গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে আমরা দিন দিন হতাশার দিকে যাচ্ছি। ইসির আচরণের মনে হচ্ছে, তারা প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন করতে যাচ্ছে। তারা ৫ জানুয়ারির মতো আরেকটি নির্বাচনের মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল। আমরা ঐক্যফ্রন্ট গঠনের মাধ্যমে নির্বাচনী জোয়ার তৈরি করেছি।’

জামায়াত প্রসঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের নেতা সুব্রত চৌধুরী বলেন, তিনি জামায়াত দেখেন না। জামায়াত যাঁরা, তাঁরা আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন।

আইনের ধারা মনে রাখার সহজ উপায়


আইনের ধারা মনে রাখার সহজ উপায় How to remember the section of act/ The easy way to remember the section of act . বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৩ হাজারের বেশি আইন রয়েছে। সব আইনের সব ধারা মনে রাখা দুঃসাধ্য ব্যাপার তবে আইনকে প্রফেশনালি নিলে অন্তত কোন কোন আইনে কি রয়েছে সেটা মনে রাখতে হবেন। একেবারে সঠিক ধারা মনেরাখা প্রয়োজন আইনের ছাত্রদের জন্য কারণ তারা আইন বিষয়ে ডিগ্রী নেওয়ার পর ২টি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়। একটি হল জুডিসিয়াল সার্ভিস পরীক্ষা আর অন্যটি হল আইনজীবী নিবন্ধন পরীক্ষা। জুডিসিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় নির্বাচিত হলে আপনি সহকারী জজ হিসাবে নিয়োগ পাবেন আর আইনজীবী নিবন্ধন পরীক্ষা পাস করলে আপনি আদালতে আইনজীবী হিসাবে কাজ করার অনুমতি পাবেন। আইনের সকল ছাত্রের একটা সাধারণ প্রশ্ন হল “আইনের ধারা কিভাবে মনে রাখবো?” আপনার মনে যদি “আইনের ধারা কিভাবে মনে রাখবো?” এই প্রশ্ন থাকে তবে এই ভিডিও আপনার জন্য। যেমন দণ্ডবিধির গুরুত্বপূর্ণ ধারা: মৃত্যুদণ্ডের ধারাগুলো:১২১, ১৩২, ১৯৪, ৩০২, ৩০৩, ৩০৫, ৩০৭(২), ৩৯৬ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের ধারা গুলো: ১২১, ১২১ক, ১২২, ১২৪ক, ১২৫, ১২৮, ১৩০, ১৩২, ১৯৪, ১৯৫, ২২৫, ২২৫ক, ২২৬, ২৩২, ২৩৩, ২৫৫, ৩০২, ৩০৪, ৩০৫, ৩০৭, ৩১১-৩১৫ , ৩২৬, ৩২৯, ৩৬৪, ৩৭১, ৩৭৬, ৩৭৭, ৩৮৮, ৩৮৯, ৩৯৪, ৩৯৬, ৪০০, ৪০৯, ৪১২, ৪১৩, ৪৩৬, ৪৩৭, ৪৪৯, ৪৫৯, ৪৬০, ৪৬৭, ৪৭২, ৪৭৪, ৪৭৫, ৪৭৭ সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের ধারাগুলো : ১২৬, ১২৭, ১৬৯ শুধুমাত্র জরিমানা দণ্ড : ১৩৭, ১৫৪-১৫৬, ১৭৬, ২৯৪ক, ১৭১, ২৭৮, ২৬৩ক, ২৮৩, ২৯০, ১২৩-১২৮, ১৩০, ১৩৪, ৩৮০, ৪৫৭। দণ্ডবিধির প্রথম শাস্তির ধারা ১০৯ এবং সর্বশেষ শাস্তির ধারা ৫১১। সবচেয়ে কম শাস্তির ধারা ৫১০ এবং সর্বোচ্চ ৩০৩ এভাবে আপনার নিজের মত করে সাজিয়ে নিবেন। ভিডিও দেখাত পর আশাকরি বিষয়টি সকলে বুঝেছেন। আপনি যদি উপরোক্ত ৫ ধাপ মেনে চলেন তবে আপনি অবশ্যই ধারা মনে রাখতে পারবেন। সব সময় মূল আইন পড়ুন এবং গাইড বা নোট বইকে সহায়ক বই হিসাবে ব্যবহার করুণ। আমাদের অন্যান্য ভিডিও গুলো দেখতে পারেন। বিশ্বের ১০ জন ধনী আইনজীবী https://www.youtube.com/watch?v=x-qad... ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ https://www.youtube.com/watch?v=RH7FC... বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস পরীক্ষার সিলেবাস https://www.youtube.com/watch?v=VJCG2... ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায় https://www.youtube.com/watch?v=b5LSH... #আইনের_ধারা_মনে_রাখার_সহজ_উপায় #BanglaLawSchool #How_to_remember_the_section_of_act

03 October 2018

আইনের ধারা মনে রাখার সহজ উপায়

একজন সাধারণ ব্যক্তি এবং একজন আইন বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তির মধ্যে প্রধান পার্থক্য হল একজন সাধারণ ব্যক্তি জানেন কোনটা অপরাধ আর কোনটা অপরাধ নয় কিন্তু আইন বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তি একই বিষয় জানার সাথে জানেন কোন আইনের কত ধারায় সেই বিষয়ে বলা আছে। কোন আইনের কোন ধারা জানেন বলেই তিনি অভিজ্ঞ। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৩ হাজারের বেশি আইন রয়েছে। সব আইনের সব ধারা মনে রাখা দুঃসাধ্য ব্যাপার তবে আইনকে পেশা হিসেবে নিলে অন্তত কোন কোন আইনে কি রয়েছে সেটা মনে রাখতে হবে।
একেবারে সঠিক ধারা মনে রাখা প্রয়োজন আইনের ছাত্রদের জন্য কারণ তারা আইন বিষয়ে ডিগ্রী নেওয়ার পর ২টি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়। একটি হল জুডিসিয়াল  সার্ভিস পরীক্ষা আর অন্যটি হল আইনজীবী নিবন্ধন পরীক্ষা। জুডিসিয়াল  সার্ভিস পরীক্ষায় নির্বাচিত হলে আপনি সহকারী জজ হিসাবে নিয়োগ পাবেন আর আইনজীবী নিবন্ধন পরীক্ষা পাস করলে আপনি আদালতে আইনজীবী হিসাবে কাজ করার অনুমতি পাবেন। আইনের সকল শিক্ষার্থীর একটা সাধারণ প্রশ্ন হল “আইনের ধারা কিভাবে মনে রাখবো?”
জুডিসিয়াল  সার্ভিস পরীক্ষা বা আইনজীবী নিবন্ধন পরীক্ষার প্রাথমিক নির্বাচনী বা এমসিকিউ (MCQ) পরীক্ষায় এখন প্রায়  ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ প্রশ্ন আসে ধারা নিয়ে। যেমন, দণ্ডবিধির কোন ধারায় চুরি নিয়ে বলা আছে? বা দণ্ডবিধিতে কত নম্বর ধারায় চুরির সংজ্ঞা আছে? ইত্যাদি। এছাড়াও লিখিত পরীক্ষায় যদি বর্ণনার সাথে সঠিক ধারা উল্লেখ করা যায় তবে পরীক্ষক বেশি নম্বর দেন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল প্রাথমিক নির্বাচনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হলে সঠিক ভাবে ধারা মনে রাখতে হবে। এই বিষয় মাথায় রেখে আজ আলোচনা করা হবে কিভাবে একজন আইনের শিক্ষার্থী আইনের ধারা সহজে মনে রাখতে পারবেন। অনেক জুডিসিয়াল সার্ভিস পরীক্ষার পরীক্ষার্থী সব গুলো আইনের নাম বলতে পারেন না সেখানে তাদের প্রশ্ন করা হয় আইনের ধারা নিয়ে। যেকোনো আইন পড়ার এবং ধারা মনে রাখার ধাপ গুলো হল;
ধাপ ১) সবার প্রথমে মনকে ঠিক করতে হবে যে  আপনি ধারা মনে রাখতে চান এবং মনের মধ্যে এই আগ্রহ  তৈরি করতে হবে ।
ধাপ ২) প্রথমে আপনি মুখস্থ করার চেষ্টা করবেন মোট কয়টি ধারা আছে , কয়টি অধ্যায় বিভক্ত এবং কি ?  যেমন, দণ্ডবিধি ১৮৬০ এ মোট ধারা রয়েছে ৫১১ টি এবং অধ্যায় রয়েছে ২৩ টি।
ধাপ ৩) এরপর উক্ত আইনের গুরুত্বপূর্ণ ধারা গুলো নির্বাচন করতে হবে।
যেমন দণ্ডবিধির গুরুত্বপূর্ণ ধারা:
মৃত্যুদণ্ডের ধারাগুলো: ১২১, ১৩২, ১৯৪, ৩০২, ৩০৩, ৩০৫, ৩০৭(২), ৩৯৬
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের ধারা গুলো:
১২১, ১২১ক, ১২২, ১২৪ক, ১২৫, ১২৮, ১৩০, ১৩২, ১৯৪, ১৯৫, ২২৫, ২২৫ক, ২২৬, ২৩২, ২৩৩, ২৫৫, ৩০২, ৩০৪, ৩০৫, ৩০৭, ৩১১-৩১৫ , ৩২৬, ৩২৯, ৩৬৪, ৩৭১, ৩৭৬, ৩৭৭, ৩৮৮, ৩৮৯, ৩৯৪, ৩৯৬, ৪০০, ৪০৯, ৪১২, ৪১৩, ৪৩৬, ৪৩৭, ৪৪৯, ৪৫৯, ৪৬০, ৪৬৭, ৪৭২, ৪৭৪, ৪৭৫, ৪৭৭
সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের ধারাগুলো : ১২৬, ১২৭, ১৬৯
শুধুমাত্র জরিমানা দণ্ড : ১৩৭, ১৫৪-১৫৬, ১৭৬, ২৯৪ক, ১৭১, ২৭৮, ২৬৩ক, ২৮৩, ২৯০, ১২৩-১২৮, ১৩০, ১৩৪, ৩৮০, ৪৫৭।
দণ্ডবিধির প্রথম শাস্তির ধারা ১০৯ এবং
সর্বশেষ শাস্তির ধারা ৫১১।
সবচেয়ে কম শাস্তির ধারা ৫১০ এবং সর্বোচ্চ ৩০৩
এভাবে আপনার নিজের মত করে সাজিয়ে নিবেন।
ধাপ ৪) যেকোনো বিষয়ের শুরুর ধারা এবং শেষ ধারা। তাহলে যেকোনো মাথায় একটি কাঠামো তৈরি হবে উক্ত বিষয় সম্পর্কে। গুরুত্বপূর্ণ ধারার মাঝে যেসকল ধারা রয়েছে সেটা সম্পর্কে একটা ধারণা নিতে  হবে ।
যেমন চুরি বিষয়ে শুরুর ধারা ৩৭৮ এবং শেষ ধারা ৩৮২।
ধাপ ৫) নিয়মিত অনুশীলন করতে হবে। প্রতিদিন করলে খুব ভাল, না হলে সপ্তাহে অন্তত একবার পড়তে হবে। তাও সম্ভব না হলে অন্তত গুরুত্বপূর্ণ ধারা গুলো নিয়মিত পড়তে হবে।
আইন নিয়ে কিছু করতে হলে যেমন আপনি বিচারক বা আইনজীবী হলে আপনাকে ধারা মনে রাখতেই হবে। আর এই পেশায় পড়াশুনার কোন বিকল্প নাই। আমাদের দেশে প্রতিষ্ঠিত আইনজীবীগণ এখনো নিয়মিত পড়াশুনা করেন।
আশাকরি বিষয়টি সকলে বুঝেছেন। আপনি যদি উপরোক্ত ৫ ধাপ মেনে চলেন তবে আপনি অবশ্যই ধারা মনে রাখতে পারবেন। সব সময় মূল আইন পড়ুন এবং গাইড বা নোট বইকে সহায়ক বই হিসাবে ব্যবহার করুণ।
লেখক: পরিচালক বাংলা ল’ স্কুল ইউটিউব চ্যানেল এবং শিক্ষানবিশ আইনজীবী ঢাকা জজ কোর্ট

 
Copyright © 2019 Bangla Law School
Design and Developed By BanglaLawSchool. Powered by Bangla Law School